Dr. M A Kaiyum
Sheaf of Paddy
BNP Leadership
ঢাকা-১১ঃ   বাড্ডা,   ভাটারা,   রামপুরা,   মালিবাগ,   সাঁতারকুল,   বেরাইদ
মূল
আমার পরিচয়
বর্তমান কর্মসূচী
নির্বাচনী ইশতেহার
সরাসরি আমাদের জানান

ছেলেবেলা

আমার জীবনের শুরুটা হয়েছিল ১৯৬৩ সালে, জয়পুরহাট সুগার মিল অফিসারস কলোনির ছিমছাম পরিবেশে। চার বোনের পর আমার জন্ম। আমরা ছিলাম বড় পরিবার—পাঁচ বোন ও চার ভাইয়ের কলকাকলিতে ভরা সংসার। মাত্র ছয় বছর বয়সে আমরা ঢাকায় চলে আসি এবং মধ্য বাড্ডায় বসবাস শুরু করি। বাবা বিজেএমসি-তে (BJMC) সরকারি চাকরি করতেন, আর মা ছিলেন একজন স্নেহময়ী সাধারণ গৃহিণী। জীবনের মোড় ঘুরে যায় আমার ম্যাট্রিক পরীক্ষার সময়। হঠাৎ বাবার মৃত্যুতে সংসারের পুরো ভার এসে পড়ে আমার কাঁধে।

কেন রাজনীতিতে যোগদান?

শৈশব থেকেই ইতিহাসের নানা চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী আমি। চোখের সামনে দেখেছি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, দেখেছি আওয়ামী লীগের পতন। ঠিক সেই সময়েই দৃশ্যপটে আসেন জিয়াউর রহমান। তাঁর মধ্যে আমি খুঁজে পেয়েছিলাম এক অনন্য দেশপ্রেম, সততা আর মূল্যবোধের সংমিশ্রণ। যখন দেখলাম তিনি নিজে মাঠে নেমে খাল খনন কর্মসূচি তদারকি করছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ঐক্যের ডাক দিয়ে ‘সার্ক’ গঠন করছেন, কিংবা নারীদের কর্মসংস্থানের নতুন পথ তৈরি করছেন—তখন তাঁর সেই প্রতিভা আর কর্মস্পৃহা আমাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। মূলত তাঁর সেই দূরদর্শী নেতৃত্ব আর দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা দেখেই আমি বিএনপির রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি।

একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমার জীবন

১৯৯৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল—টানা প্রায় দুই যুগ আমি আপনাদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে ওয়ার্ড কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আপনারা জানেন, ১৯৯১ সালের আগে আমাদের এই বাড্ডা ছিল উন্নয়নবঞ্চিত এক জনপদ; এখানে বিল্ডিং পারমিট, গ্যাস, পানি বা বিদ্যুতের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ১৯৯১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কথা দিয়েছিলেন এই এলাকার চেহারা পাল্টে দেবেন। সেই প্রতিশ্রুতি আর আপনাদের ভালোবাসাকে সম্বল করে আমার নেতৃত্বে বাড্ডার ১৩৮৫ একর জমি অবমুক্ত হয়। ঘরে ঘরে পৌঁছে দেই গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ। পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষে প্ল্যান মাফিক বাড়িঘর নির্মাণ শুরু হয়। এমনকি অপরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থার কারণে যারা জমি কিনে নিঃস্ব হওয়ার পথে ছিলেন, তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য আমি দুই কাঠা করে জমির ব্যবস্থাও করে দিয়েছি। চলাচলের সুবিধার্থে বাড্ডার সংকীর্ণ অলিগলিগুলো প্রশস্ত করেছি এবং ২০০৪ সালে বাড্ডা লিংক রোড বাস্তবায়ন করেছি। শিক্ষার আলো ছড়াতে ১৯৯৬ সালে বাড্ডা হাই স্কুল এবং মহানগর মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। আমার স্বপ্ন ছিল একটি আধুনিক ও শিক্ষিত বাড্ডা গড়ে তোলা।

বাড্ডা হাই স্কুলের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

সংগ্রামের বহু বছর

উন্নয়নের এই পথ কখনোই মসৃণ ছিল না। বাড্ডার মানুষের জন্য যখনই ভালো কিছু করতে গিয়েছি, তখনই নেমে এসেছে অন্ধকারের আঘাত। লিংক রোড প্রকল্পের সময় বিরোধীরা আমার বাসায় বোমা নিক্ষেপ করেছে, গভীর রাতে অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে, এমনকি আমাকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলার জন্য বাসায় কাফনের কাপড় পর্যন্ত পাঠিয়েছে। তবু আমি পিছু হটিনি, নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে এলাকাকে আগলে রেখেছি।

১৯৯৬ এবং ২০০৮ সালের আওয়ামী সরকার আমার বিরুদ্ধে ১০৩টিরও বেশি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। আমার স্ত্রী এবং নিষ্পাপ স্কুলপড়ুয়া সন্তানদের দিনের পর দিন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। ২০১১ ও ২০১৪ সালে আমাকে দুবার গুম করার ষড়যন্ত্র হয়। যখন জানতে পারি যে আমি গুমের তালিকার শীর্ষে, তখন প্রাণ বাঁচাতে বুকভরা কষ্ট নিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হই।

প্রবাস জীবনেও আমাকে স্বস্তি দেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালের প্রহসনের নির্বাচনের পর আমাকে জোর করে দেশে ফেরত এনে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্র হয়। পাসপোর্ট বাতিল করে এবং মালয়েশিয়ার হাই কোর্টের রায় অমান্য করে আমাকে ডিপোর্ট করার চেষ্টা করা হয়। জীবনের এক বিভীষিকাময় অধ্যায় হিসেবে আমাকে এক মাস রিফিউজি ক্যাম্পে থাকতে হয়েছে। তবে মহান আল্লাহ যার সহায়, তাকে কেউ দমাতে পারে না। আমার পরিবার, জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার আইনজীবীদের অক্লান্ত চেষ্টায় সেই যাত্রায় আমি রক্ষা পাই। আল্লাহর অশেষ কৃপায় এর ঠিক ছয় মাস পরেই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পতন ঘটে।

আজ মহান আল্লাহ আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছেন নিজের দেশের মাটিতে পা রাখার। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও প্রিয় এলাকাবাসীর সাথে মিলিত হতে পেরে আমি আবেগাপ্লুত। ইনশাআল্লাহ, আগামী নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আমি আবারও আপনাদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।